শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬

আমি শুধু পেতে চাই যেতে চাই
চিরকাল তোমার স্নিগ্ধ সান্নিধ্যে ।
এখানে চরম নৈরাজ্যে আর পারি না
উন্মুখ তোমার সন্নিধানে আকুল আমি
মণি মুক্তা খচিত জীবনের আবহ
চাইনা আমার সূর্য -চন্দ।
কাতর স্বরে ব্যাকুল আকুতি...
আমারে নাও,এখনি নাও ।
আমার আমৃত্যু স্বপ্নে সব সময় সকল বৈচিত্র্যে
যত দূরেই যাই আমি যে প্রান্তেই থাকি
ক্ষত বিক্ষত অন্তরে আমার
শুধুই তুমি শুধুই তুমি !!

মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৬

ধূসর বিকেল হলেই তুমি থাকবে চায়ের কাপে
ক্লান্তিগুলো রাখবে ঢেকে জটিল সকল চাপে!
দুঃখগুলো রাখব দূরে উড়িয়ে সুখের ঘুড়ি,
শক্ত হাতে ধরব লাটাই খেলব লুকোচুরি!
রাত্রি ছুঁয়ে জোছনা মেখে ঘুমহারানো চোখে
এক পলকে থাকব চেয়ে কেবা মোরে রোখে।
একটু পরেই রাত্রিটাকে ছিনিয়ে নেবে কেউ
মনের উঠোন ভরে আছে এক সমুদ্র ঢেউ।
ফুলের বনে মৈামাছি হয়ে ঘুরবে কুসুম গলি
জেনে রেখ তুমি আমার প্রথম ফোঁটা কলি।
হূদয়পুরে নামছে শ্রাবণ বইছে অঝোরধারা,
কেমন করে বাঁচব বল এই তোমাকে ছাড়া!
পূর্ণ যৈাবনবতী চাদেঁর আলোয় তোমাকে চেয়েছি, নির্জনে, নির্ভরতায়,
আলোমাখা তারাঁ-রা বড় ব্যাকুল হয়ে উঠেছে তোমায় ছুঁয়ে দিতে,

এই যে তোমায় ছুঁয়ে দিলাম,
জোৎস্না মাখতে চাইবে বুক, এখানেই যত গণ্ডগোল।
নবান্নের ব্যস্ততায় ডুবে থাকে সারা দিন
একটি একটি করে ধান, সযত্নে তুলে আনে
টন টন করে উঠে বুকের বুকের স্তন
ধূলিমলিন দেহে তখনো খোকা -
হামাগুড়ি দেয় সারাটা উঠোন!
ঘরে ঘরে সোনালী নবান্ন
বিদীর্ণ বুকে পূর্ণ-জাগ্রত কৃষাণীর স্বপ্ন
অন্তরে অন্তরে নিবিষ্ট ভাওয়াইয়া সুর, ছন্দ
দূর বহু দূর ভেসে যাওয়া মধু পিঠার সুগন্ধ!
যৌবনের বৃথা রাখঢাক কৃষাণীর শতচ্ছিন্ন বসনে
কৃষাণের শ্রম-শুদ্ধ দেহে টগবগ করে প্রেম, তীক্ষ্ণ মননে
নবান্নের সোনালী খড়ে আঁচড়ে পড়া রোদ্দুর
ক্ষণকালের জন্য দূরে ঠেলে সমস্ত অভাব; দুর্মর প্রবণে
দু জনে ভাসিয়ে দেয় একটি প্রমত্ত দুপুর।
আঁচলে আগলে নেয় নাড়ি ছেঁড়া ধন
সাত সকালে হিম ধরা শীতে বাজে দন্ত কম্পন।
বারবার গলা টেনে দেখে ঊষার প্রান্ত
কুয়াশার ধূম্র কেটে সূর্য-মামা উঠবে কখন!
আজ সুপার মুনের নক্ষত্রের এই রাতে
আলোগুলো নিভে যেতো,তবে কেমন হতো !
এই যে আমি অন্য এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি
এ আমি নই অন্য কেউ
এখানে কি কেউ আছে যে কবিতা শোনাবে আজ রাতে?
আমি বদলে যেতে যেতে কেমন করে যেন
অনিবার্য ভাবে তোমার কাছেই ফিরে আসি
তুমি কি পারো আমায় একটি কবিতা শোনাতে
স্তব্ধ সময়ের কাছে আজ প্রশ্ন নেই উত্তর নেই
কেবল একটি ছায়ার দেয়ালে
কিছু অস্পষ্ট জীবন রেখার আঁকিবুঁকি
এখানে কি কেউ আছে যে কবিতা শোনাবে আজ রাতে
থেমে যায় ঝড় কেবল থেকে থেকে
বিদ্যুৎ চমকে ওঠে দূর আকাশে
আর কবিতা শোনার এক আশ্চর্য আকুলতা বেড়ে চলে
এখানে কি কেউ আছে যে কবিতা শোনাবে আজ রাতে...
সন্ধ্যার নীলে ছায়াঘেরা বাড়িটা ছেয়ে যায়
শিরশির বাতাসে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছাট এসে
ভিজিয়ে দিয়ে যায় সন্ধ্যার মুখ
চোখের কাজল লেপটে রাত নামে
মোমবাতির রহস্য ছায়ার দেয়ালে তাকিয়ে থাকে একমনে
কি ভাবে কি ভেবে ভেবে যায়
ঝরো হাওয়ায় সন্ধ্যার বুক যেন তোলপাড় ওঠে
শান্ত নদীর তীরে সন্ধ্যা তলিয়ে যায় রাত আঁধার জলে
এখানে কি কেউ আছে যে কবিতা শোনাবে আজ রাতে।”
কান্নারাই বুকে হাত বুলিয়ে দেয়
ভাল থাকি এই আবেশেই,
নয়ত ভাল থাকার ভান করি,
ঝাপিয়ে পড়ি কল্পিত বুকে,
তুমি দ্বন্দ্বের আকাশে ঘনিয়ে আসা মেঘে
বৃষ্টি ভিজবে বলে দূরে থাক এ ভাঙ্গা-ডানা পাখির থেকে।
পাখি তবু সে চক্ষু বুজেই থাকে,
ছেঁড়া সূর্য দেখবার আশায়।
আমারী হয়তো ছিল সব ভুল।
রূপ বৈচিত্র নিয়ে প্রকৃতি আমার কাছে
ফ্যাকাশে হয়ে যায় ।
চিরকাল বন্দী হয়ে যাই আমি
বদ্ধ উন্মাদ প্রলাপের কাছে।
মাতোয়ারায় পাগল করে তোলে
তোমার ফুলের কুসুম সুগন্ধ আমাকে
বেমালুম আমি হেরে যাই স্বার্থপরতার কাছে ।
তোমার দিগন্ত বিস্তৃত চুলের অবিন্যস্ত সর্পিল
বিষভার বহন করার ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।
এই হেমন্তে কাশফুলে ছেয়ে গেছে ,
তা তোমারী জন্যে- তোমায় আর আকৃষ্ট
করে না আমার মূল্যহীন প্রেম।
হারিয়ে যাই বড় চেনা বড় জানা এই লোকারণ্যের ভীরে
অন্ধকারে সমর্পণ করি আমি নিজস্ব সত্ত্বাকে ।